দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দেশে জ্বালানি তেলের বর্তমান সংকটে পাম্পের লম্বা লাইনের ঝামেলা এড়াতে এবং পকেটের টাকা বাঁচাতে মোটরসাইকেল চালকদের সচেতন হওয়া জরুরি। নিম্নলিখিত সহজ নিয়মগুলো মেনে চললে উল্লেখযোগ্য তেল সাশ্রয় সম্ভব।
সঠিক গতি বজায় রাখা:
বাইক খুব দ্রুত বা খুব ধীরে না চালিয়ে ৪০-৫০ কিমি/ঘণ্টা গতিতে চালালে সর্বোত্তম মাইলেজ পাওয়া যায়। ঘন ঘন ব্রেক বা হঠাৎ এক্সিলারেশন তেল অপচয় করে, তাই মসৃণভাবে গতি বাড়ানো ভালো।
সঠিক গিয়ার ব্যবহার:
কম স্পিডে হাই গিয়ার বা বেশি স্পিডে লো গিয়ার ব্যবহার ইঞ্জিনে অতিরিক্ত চাপ দেয়। গতি অনুযায়ী সঠিক গিয়ার ব্যবহার করুন।
ট্রাফিক সিগন্যালে ইঞ্জিন বন্ধ রাখা:
৩০ সেকেন্ডের বেশি জ্যামে বা সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকলে ইঞ্জিন বন্ধ করুন। চলমান ইঞ্জিনে তেল অপচয় হয়।
টায়ারের প্রেশার চেক করা:
সপ্তাহে অন্তত একবার টায়ারের হাওয়া ম্যানুয়াল অনুযায়ী ঠিক আছে কি না দেখুন। কম হাওয়ায় ইঞ্জিনের লোড বাড়ে এবং তেল বেশি লাগে।
চেইন ও ক্লাচ ঠিক রাখা:
চেইন খুব ঢিলা বা টাইট হলে শক্তি অপচয় হয়। পরিষ্কার রাখুন ও লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করুন। ক্লাচ লিভার সঠিকভাবে অ্যাডজাস্ট করুন।
অযথা ব্রেক না করা:
রাস্তায় সামনের পরিস্থিতি খেয়াল রেখে ঘন ঘন ব্রেক না চেপে থ্রটল কমিয়ে গতি নিয়ন্ত্রণ করুন। একে বলা হয় ‘স্মুথ রাইডিং’।
ভালো মানের ফুয়েল ও সঠিক সময়:
বিশ্বস্ত পাম্প থেকে তেল নিন। ভোর বা রাতে তেল নেওয়া ভালো, কারণ তখন জ্বালানির ঘনত্ব বেশি থাকে।
নিয়মিত সার্ভিসিং ও এয়ার ফিল্টার:
ময়লা এয়ার ফিল্টার ইঞ্জিনে অক্সিজেন কম দেয়, ফলে তেল বেশি পোড়ে। নিয়মিত সার্ভিসিং ও এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার বা পরিবর্তন করুন।
অতিরিক্ত ওজন বহন এড়িয়ে চলা:
অপ্রয়োজনীয় ভার বহন করলে ইঞ্জিনে চাপ পড়ে এবং তেল খরচ বেড়ে যায়।
কার্বুরেটর বা ফুয়েল ইনজেকশন চেক:
কার্বুরেটর চালিত বাইকের জন্য ‘ইকোনমি মোড’-এ টিউন করুন। ফুয়েল ইনজেকশন ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে সেন্সর ঠিক আছে কি না নিশ্চিত করুন।
বিশেষ পরামর্শ:
-ছোট দূরত্বে হাঁটা বা সাইকেল ব্যবহার করুন।
-রুট পরিকল্পনা করে যান, যেখানে যানজট কম।
-তেল সাশ্রয়ের পাশাপাশি ট্রাফিক আইন মেনে চলুন।
এই সচেতন অভ্যাসগুলো অনুসরণ করলে তেল বাঁচানোর পাশাপাশি নিরাপদ ও অর্থসাশ্রয়ী রাইডিং সম্ভব।
/অ